গল্পঃ খোপা

গল্প খোপা প্রথম পর্ব

শুধুমাত্র রাস্তায় নোংরা কাপর পরে ঘুরলেই তাকে পাগল বলে না, কিছু পাগল থাকে যারা একটা নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে ব্যাপক পাগলামি করে। আজ ঠিক তেমন একটি গল্পোই বলবো।
অনিক কিছুতেই চায় না কোন মেয়ে তার সামনে চুল খোপা করে আসে। একদিন সকালে নাস্তার টেবিলে সবাই খুব হাসি খুশি ভাবে নাস্তা করতেছে হঠাৎ তার চোখ পড়লো তার মায়ের চুলের উপর।
অনিকঃমা তুমি এটা কি করলে?
মাঃ কি আবার করলাম আমি?
অনিকঃতুমি জানো না চুলে খোপা করা আমার একদম পছন্দ না যত্তসব ভালো লাগে না আমার (ধুম করে নাস্তার প্লেট ফ্লোরে ফেলে দিয়ে চলে গেলো)
সবাই অবাক কি হলো?????? এভাবে সে ইউনিভার্সিটিতে গেলো আজ তার প্রিয় বান্ধবির জন্মদিন খুব জমকালো উৎযাপন হবে চিল হবে মাস্তি হবে।।।।।।।।
সবাই ঠিক সময়ে ইপস্থিত হলো সব বন্ধুরা।সবাই একটু সেজে গুজে এলো এরপর সব ঠিকঠাক করে কেক  সাজালো সবকিছু ঠিক নিলা আসলেই কেক কাটা হবে।এমন সময়  নিলা এসে হাজির গাঢ় নীল রঙ্গের শাড়ি পরে সাথে খোপায় ধবধবে সাদা বকুল ফুলের মালা গোজা।।।
অনিকঃতুই এমন  করলি কেন ?
নীলাঃ সরি রে লেট হয়ে গেছে সাজতে সাজতে।
অনিকঃআমি এটা বলছি না তুই চুলের খোপা করলি কেন?
নীলাঃআজ একটু আলাদা তাই ভাবলাম..........
অনিকঃ কি ভাবছিস যত্তসব ফালতু আমি একবার বলছি এটা আমার পছন্দ না।
নীলাঃ কেন?? পছন্দ বল আজ বলতে  হবেই।।।
অনিকঃ বলবো না তুই খোপা খোল?
নীলাঃবলতে তোকে হবেই।।।
অনিকঃ খুলবি কি না বল??
নীলাঃ না না না।।।।।।
অনিকঃ তুই থাক আর জীবনে আমার সামনে আসবি না।(বেলুন ছিড়ে, কেক ফেলে দিয়ে গিফট টা ফেলে দিয়ে) চলে গেল।
সবাই খুব অবাক কি হলো ও এত রি-অ্যাক্ট করলো কেন? ওর খোপায় এত প্রবলেম কিসের আসলে কা হইসে ওর।।।। সবাই ২ দিন ধরে ওকে ফোন দিল অফ, ফেসবুকে নক করলো রিপ্লাই নাই।৩ দিন পরে শুনলো ও ওর ভাইয়ের বিয়ে গ্রামে সবাই সেখানে গেছে।
এদিকে সবাই খুব আনন্দিত অনিক ও সবার মতো আনন্দে মেতে উঠলো সব কিছু ভালোভাবে শেষ হলেও অনিক তেমন খুশি না। ঠিক বিয়ের দিন ঘটলো খুব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সে তার ভবির চুল দেখে রেগে গিয়ে তার মাকে বললো
অনিকঃ মা তুমি গিয়ে ভাবিকে তার খোপা খুলতে বলো।
মাঃ দেখ তুই কিন্তু এখন বেশি করতেছিস
অনিকঃ তুমি খুলতে বলো তা না হলে কিন্তু এই বিয়ে হবে না
মাঃ আচ্ছা আমি দেখছি, কিন্তু বলে রাখলাম তুই কিন্তু খুব করতেছিস এর ফল কিন্তু তোকে ভোগ করতে হবে।( রেগে গিয়ে কাপতে কাপতে চলে গেল)
গিয়ে সে অনেক কষ্ট করে তার নতুন বউকে অনুরোধ করে খোপা খুলতে বললো।বউ কষ্ট হলেও শাশুরির কথা রাখলেন।বিয়ে শেষে বউ নিয়ে চলে এলো বাড়িতে।রাত প্রায় ১০ টা তাই সবাই মোটামুটি ঘুমানোর জন্য তৈরি হচ্ছে।এমন সময় অনিক এসে হাজির হলো তার ভাবির রুমে গিয়ে শুধু বললো অনিকঃ আপনি কোনদিন চুল খোপা করবেন না।এর মধ্যে অনিকের মা আসলো
মাঃযাক বাবা ভালোভাবে বিয়েটা শেষ হলো
নতুন বউঃ মা অনিক যেন কি বলতেছে বুঝতেছি না।
মাঃ এই তুই কি বলছিস?
অনিকঃ বলছি ভাবি যেন আর কোনদিন চুলে খোপা না করে।
মাঃ কেন তোর প্রবলেম কি বল?
অনিকঃ না বলতে হবে না, যা বলছি তাই করো।
নতুন বউঃ বলতে তোমাকে হবেই আমি শুনবোই।
অনেক জোর করার পর অনেক বলার জন্য রাজি হলো।এবং বলতে লাগলো তার ভালোবাসার মানুষের কথা।।।
#কল্পনায়
১ বছর আগের কথা তখন অনিকের একটা ভালোবাসার মানুষ ছিলো নাম জাসিয়া। সে খুব ভালোবাসতো অনিককে। অনিক যা যা বলতো তাই করতো কিন্তু প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়ােহতো শুধু মাত্র এই চুল খোপা করা নিয়ে।মেয়েটা মডার্ন তাই চুল বিভিন্ন রকমের করে বাধতো। কিন্তু অনিক প্রতিদিন দেখা করার সময় তার জন্য নিয়ে আসতো একটা ধবধবে সাদা বকুল ফুলের মালা।তার বিশ্বাস খোপা চুলে বকুলের মালার থেকে সুন্দর আর কিছুই নেই।অনিক সবসময় জাসিয়া কে চুল খোপা করতে বলতো।হঠাৎ অনিক জাসিয়াকে ফোন দেয় তখন বিকেল ৫টা বাজে।
অনিকঃ কোথায় তুমি?
জাসিয়াঃবাসায়।কেন?
অনিকঃ কাজ আছে তুমি সন্ধ্যায় আসবা ক লেকের সামনে।
জাসিয়াঃ আসতেই হবে?
অনিকঃ থাক তোমার আসা লাগবে না।।।। জীবনেও।
জাসিয়াঃ রাগ করে না বাবু আসবো তো বললাম।
অনিকঃ ওকে।গুড বাই।(বলে ফোনটা রেখে দিলো)
সন্ধ্যা হলে আজ সব নিয়ম ভেঙ্গে অনিক জাসিয়ার আসার আগে হাজির কারন আজ অনিক তার উনিজেদের গাছের বকুল ফুল দিয়ে নিজ হাতে মালা বানিয়ে নিয়ে এসেছে।এটা নিজ হাতে জাসিয়ার খোপায় পড়িয়ে দিবে ।টানা ৩২ মিনিট পর আসলো পদ্মরাগমণি (অনিক আদার করে এই নামে ডাকতো জাসিয়াকে)।জাসিয়া আসলো কিন্তু চুলে খোপা করা ছিলো না কারন তখনও ওর চুল দিয়ে পানি ঝড়ছে।
অনিকঃ তুমি এটা কি করেছো??খোপা
 করো নি কেন????
জাসিয়াঃ দেখনা চুল ভেজা? এখনও পানি ঝরছে।
অনিকঃ তাতে কি? তোমার চুল বড় না আমি বড়? আমার জন্যও না?
জাসিয়াঃ তুমি যদি আমাকে সকালে বলতে যে দেখা করবে তাহলে তো পারতাম।এখন পারিনি।
অনিকঃ তুমি কি খোপা করবা না?
জাসিয়াঃ না, এখন কিভাবে করবো বলো?
অনিকঃ যাও আর কোনদিন আমার সামনে আসবে না।
জাসিয়াঃ বুঝছি তোমাকে নিয়ে আর পারা যাবে না।
অনিকঃ না পারতে হবে না যাও।
জাসিয়াঃ তুমিেএকটু দাড়াও আমি আসতেছি।(এই বলে সে সোজা পাবলিক টয়লেটের দিকে যায় চুল খোপা করতে)

Post a Comment

0 Comments