রিভিউ - আগস্ট ১৪ (ওয়েব সিরিজ)

✪নফ্স এ আম্মারার ভয়াবহতা!✪
-----------------------------------------------------------------
 "ইউসুফ বলল, আমি নিজেকে নির্দোষ মনে করি না, মানুষের মন অবশ্যই মন্দকর্মপ্রবণ, সে নয়, যার প্রতি আমার প্রতিপালক দয়া করেন। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক ক্ষমাশীল, পরম দয়াময়।"
-সুরা ইউসুফ, আয়াত ৫৩
.
ওয়েব সিরিজঃ আগস্ট ১৪
ধরণঃ ক্রাইম ড্রামা
রচনা ও পরিচালনাঃ Shihab Shaheen
অভিনয়ঃ তাসনুভা তিশা (তুসি), শতাব্দী ওয়াদুদ (ইন্সপেক্টর খালেদ), শহীদুজ্জামান সেলিম (তুসির বাবা), মুনিরা মিঠু (তুসির মা), সাঈদ জামান শাওন (জিমি), আবু হুরায়রা তানভীর (রুমি), মাসুম বাশার, নূর-এ আলম নয়ন, সুজাত শিমুল, হিন্দোল রায় প্রমুখ।
চিত্রগ্রহণঃ নাজমুল হাসান
সম্পাদনাঃ জোবায়ের আবীর পিয়াল
আবহ সংগীতঃ খৈয়াম শানু সন্ধি
অবমুক্তঃ Binge (বিঞ্জ)
দেশঃ বাংলাদেশ
ভাষাঃ বাংলা
.
➤নামকরণঃ
    ২০১৩ সালের ১৪ই আগস্টে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের ঘটনাকে ঘিরে সম্পূর্ণ গল্পটি আবর্তিত হয়েছে। নামকরণের ক্ষেত্রে তাই উক্ত ঘটনার তারিখ বেছে নেয়া হয়েছে। এটি আমার কাছে যথাযথ মনে হয়েছে।
.
➤ কাহিনী, চিত্রনাট্য ও সংলাপঃ
    এটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত একটি ফিকশন। কোন ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না, এ ঘটনার ব্যাপারে আমরা মোটামুটি কম-বেশি সবাই জানি। সেসময় পুরো দেশব্যাপী উক্ত জোড়া খুনের ঘটনাটি আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল, পিতা-মাতাদের মনে উক্ত ঘটনা সামান্য হলেও ভয়ের সঞ্চার করেছিল, কারণ যা ঘটেছে তা তাদের আদর-যত্নে লালনপালন করা সন্তানও কোনো এক সময় করে বসতে পারে।

    তো এরকম একটি অতিপরিচিত ঘটনা যতটা সম্ভব কম ফিকশনালাইজ করে বৃহৎ অডিয়েন্সের সাথে পেশ করার সাহস দেখানোর জন্য, 'আগস্ট ১৪' এর পুরো টিমের একটি বড়মাপের ধন্যবাদ প্রাপ্য। কাজ কেমন হয়েছে সেটা পরের বিষয়, আমাদের দেশের এরকম অবস্থায়, যেখানে "রানা প্লাজা" কিংবা "শনিবার বিকেল" এর মতো সম্ভাবনাময় চলচ্চিত্রগুলো সেন্সর বোর্ড কর্তৃক ব্যান খেয়ে আটকে আছে, সেখানে পুরো টিম এরকম একটি ঘটনা জনসম্মুখে আনার সাহসটা দেখাতে পেরেছে। এটাই বা কম কি?

    এবার আসা যাক 'আগস্ট ১৪' এর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে। ওয়েব সিরিজটি মোট ৬ টি পর্বে ভাগ করা হয়েছে। যথাঃ

 ১.অন্ধকারের দিনঃ এখানে ১৪ই আগস্ট রাতে কি হয়েছিল সেটার একটা ধারণা দেয়া হয়। সেইসাথে দেখানো হয় পরবর্তী দিন অর্থাৎ ১৫ই আগস্ট গল্পের মূল চরিত্র তুসি তার ভাই ও একটি ছোট মেয়েকে নিয়ে এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই পর্বে গল্পের মূল চরিত্র এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।

 ২.তুসি কোথায়ঃ পুলিশ অফিসার এবং তার স্ত্রীর খুনের খবর পেয়ে পুলিশ তদন্তে হাত দেয়; এদের বড় মেয়ে তুসি ও ছোট ছেলে কোথায় আছে সেব্যাপারে খোঁজ নেয়া শুরু করে। এই পর্বের শেষে একটি টুইস্ট রাখা হয়েছে, তবে যদি আপনার সত্য ঘটনাটি সম্পর্কে বিশদ ধারণা থাকে তাহলে এটা আপনার কাছে অনুমেয়-ই মনে হবে।

 ৩.ধূর্ত শয়তানঃ আসামী পুলিশকে বোকা বানানোর জন্য ধূর্ততার আশ্রয় নেয়, এসময় দেখা যায় নিতান্তই সহজ-সরল ব্যক্তিটি পুলিশের জন্য শয়তানরূপে আবির্ভূত হয়। তবে পুলিশও তাদের কেসের তুরূপের তাসটি এই পর্বের শেষে পেয়ে যায়। অর্থাৎ এখানেও একটি টুইস্ট রয়েছে এবং এটাও ২য় পর্বের মতো যদি আপনার ধারণা থাকে তবে অনুমেয় মনে হবে।

 ৪.কৃতদাসের কান্নাঃ আসামী যখন বুঝতে পেরেছে পুলিশের হাতে এখন মোক্ষম অস্ত্র চলে এসেছে, সে আবেগ নিয়ে লড়াই করার চেষ্টা চালালো। এই পর্বটি আমার কাছে উক্ত ওয়েব সিরিজের সেরা পর্ব (যুগ্ম) মনে হয়েছে, যেখানে আপনার একটা সময় গিয়ে আসামীর প্রতি একপ্রকার মায়ার সঞ্চার করবে। পুলিশ এতে অনেকখানি বিভ্রান্ত হলো। কিন্তু তখনো তারাই লড়াইয়ে এগিয়ে। তাদের উদ্দেশ্য এখন একটাই, যেভাবেই হোক আসামীর মুখ থেকে খুনের দায় স্বীকার করিয়ে নেয়া।

 ৫.ড্যান্সমাষ্টার জিমিঃ এই পর্বটিও ৪র্থ পর্বের সাথে যুগ্মভাবে সেরা পর্ব, এখানে আসামীর ব্যাকস্টোরি দেখানো হয়। শুরুর দিকে আসামীর মাদক গ্রহণ নিয়ে দর্শকের মনে যেরূপ ধারণা ছিল, এই পর্বে এসে দেখা যায় আসামীর আসক্তি অন্যকিছুতে। উক্ত পর্বে দেখা যায় আসামী কীভাবে ধীরে ধীরে মানসিকভাবে বিপর‍্যস্ত হয়েছে, কীভাবে সে একের পর এক পাপাচারে লিপ্ত হয়েছে। আসামীকে অনুপ্রেরণা দেওয়া জিমির নায়কোচিত এন্ট্রি হয় এই পর্বে।

 ৬.অন্ধকারের মেয়েঃ শেষ পর্ব এবং দৈর্ঘ্যের দিক থেকে এই সিরিজের সবথেকে বড় পর্ব। এই পর্বে প্রকৃত খুনিকে খুঁজে পাওয়া যায় এবং উক্ত খুনগুলোর লোমহর্ষক গল্প শুনে উপস্থিত পুলিশরাও মানসিকভাবে বেশ খানিকটা দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু খুনিকে মৃত্যুদন্ড না দিয়ে বিভিন্ন ঘটনার সূত্র ধরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। যারা এতোক্ষণে বুঝতে পেরেছেন এটি কোন ঘটনার কথা মনে করাচ্ছে, তারা আশাকরি এটাও ধরতে পারবেন, কেন খুনের আসামীকে মৃত্যুদন্ড না দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হলো।

    কাহিনী ও চিত্রনাট্যের সবথেকে শক্তিশালী দিক হলো 'সিনেম্যাটিক লির্বাটি' নামক বিষয়টির ব্যবহার কম করা। এতে করে প্রকৃত ঘটনাটি দর্শকের সামনে ভালোভাবে এসেছে। এখন যেকোনো ব্যক্তি, বা ভবিষ্যত জেনারেশনের কেউ যদি উক্ত ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চায়, সে এই ওয়েব সিরিজটি দেখে অনেকখানি ধারণা পেতে পারবে।

    কাহিনী ও চিত্রনাট্যের শক্তিশালী দিক যেখানে, দুর্বলতাও সেখানে। সিনেম্যাটিক লিবার্টি কম নেয়া কিংবা গল্পটিকে কম ফিকশনালাইজ করার কারণে পুরো গল্পটাই একপ্রকার সমতল, কোনো চমকজাগানিয়া টুইস্ট ও টার্ন আপনার সামনে আসবে না। এছাড়া গল্পে কিছু বিষয়কে আরেকটু বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা উচিত ছিল। যেমনঃ পুলিশের তদন্তের বিষয়টি আরো বিস্তারিত দেখাতে পারলে ভালো হতো। তাদের পরিশ্রম ও ধৈর্যের বিষয়গুলো এখানে ততটা ভালোভাবে ফুটে ওঠেনি। তাদেরকে কিছুটা বাস্তবিক দেখানো হলো আবার কিছুটা নায়কোচিত। এক্ষেত্রে মনে হয়েছে প্রথম অপশনে জোর দিলেই বোধহয় ভালো হতো।

    সংলাপ রচনা মোটামুটি ভালো হয়েছে। সিরিজের একদম শুরুতে নফ্স বা আত্মা সম্পর্কে ধর্মের ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়, যা বেশ ভালো লেগেছে। পুরো ওয়েব সিরিজে যথেষ্ট পরিমাণে গালাগাল রয়েছে, কিছু ১৮+ সিন রয়েছে। চরিত্রগুলোর খাতিরেই এসেছে তাই খুব একটা আরোপিত মনে হয়নি।

এ অংশ পাবে ৭০% মার্ক।
.
➤ পরিচালনাঃ
    বর্তমান সময়ে ছোটপর্দার ক'জন সেরা নির্মাতার নাম নিলে সেখানে শিহাব শাহীনের নাম অবশ্যই আসবে৷ তিনি মূলত রোম্যান্সধর্মী কাজের জন্য দর্শকের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত। এমনকি তার বড়পর্দার একমাত্র কাজ "ছুঁয়ে দিলে মন"ও একটি রোম্যান্সধর্মী চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটি আমি ২০১৫ সালে সিনেমাহলে উপভোগ করেছিলাম। এছাড়া তিনি গতবছর সাম্প্রতিক সময়ের তিন জনপ্রিয় টিভি তারকা; অপূর্ব, আফরান নিশো ও তাহসান কে নিয়ে 'দ্বিতীয় কৈশোর' নামক একটি ওয়েব ফিকশন তৈরি করেছিলেন, যেটি দর্শক সাদরে গ্রহণ করেছিল।

    'আগস্ট ১৪' এর মাধ্যমে আমার মনে হয়েছে, রোম্যান্সধর্মী নির্মাতা শিহাব শাহীন নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে দর্শকের সামনে পেশ করেছেন। তিনি এমন একটি কাজ উপহার দিয়েছেন সে গল্পে কোনো নরম ভাব নেই কিংবা কোনো হাসির সঞ্চার করে না। পুরোটাই সিরিয়াসনেসে ভরা। এক্ষেত্রে তার পরিচালনা আমার বেশ ভালো লেগেছে, তিনি যে ভিন্ন ঘরানার কাজেও মোটামুটি ভালোই পারদর্শী, এ কাজের মাধ্যমে যেনো সেটাই প্রমাণ করলেন।
.
➤ অভিনয়ঃ
    অভিনয়ের দিক থেকে সবাইকে টেক্কা দিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে এই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র রূপদান করা তাসনুভা তিশা। এই ওয়েব সিরিজে তার পারফরম্যান্স এতোটাই দূর্দান্ত, ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। সব দর্শকের চাহিদা সমান হয় না, এটা আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি। কিন্তু এখানে আপনার যদি সম্পূর্ণ কাজটি বিরক্তের সঞ্চারও করে, তবুও আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, এই মেয়ের অভিনয় আপনাকে দীর্ঘসময় স্ক্রীনের সামনে বসিয়ে রাখবে।

    দ্বিতীয় স্থানে আমার দৃষ্টিতে থাকবে দুই তরুণ অভিনেতা তানভীর ও শাওন; যারা যথাক্রমে রুমি ও জিমির চরিত্র রূপদান করেছেন। আবু হুরায়রা তানভীরকে আমি সবশেষ "গহীন বালুচর" এ গ্রাম্য ছেলের চরিত্র রূপদান করতে দেখেছিলাম, মুখভর্তি গোফ-দাড়ি নিয়ে তার সেই লুক এবং তার অভিনয় দুইটিই বেশ ভালো লেগেছিল। এখানে তিনি ভিন্ন অবতারে হাজির হয়েছে, কিন্তু পারফরম্যান্স আগের মতোই রয়েছে। বিপরীতে সাঈদ জামান শাওনের ২০২০ যেনো স্বপ্নের মতো কাটছে। বছরের শুরুতে "কাঠবিড়ালী" এর মাধ্যমে দর্শক প্রশংসা কুড়িয়েছেন, এখন 'আগস্ট ১৪' এও কাছাকাছি ঘরানার চরিত্রে ভালো করেছেন। মনে হচ্ছে ভবিষ্যতে নেতিবাচক চরিত্রগুলোতে তিনি ভিন্নতা আনতে পারবেন।

    ব্যক্তিগতভাবে আমি শতাব্দী ওয়াদুদের অভিনয়ে কিছুটা হতাশ হয়েছি। তিনি একজন তুখোড় অভিনেতা, গত এক দশকের বহু কাজে আমরা এর প্রমাণ পেয়েছি। কিন্তু এখানে মনে হলো তিনি আন্ডারটোনে অভিনয় করতে পারেননি। এছাড়া বাকি পুলিশ সদস্যদের তুলনায় তার ফিটনেস কিছুটা দৃষ্টিকটু মনে হচ্ছিল।

    সিরিজটির শুরুর দিকে এক বয়স্ক সিএনজি চালককে দেখতে পাওয়া যায়। আমি জানি না তিনি পেশাদার অভিনেতা কিনা, কিন্তু তিনি খুবই ভালো অভিনয় করেছেন, একদম নজরকাড়া। এছাড়া শহীদুজ্জামান সেলিম ও মনিরা মিঠুর চরিত্রে কিছু দেখানোর সময়-সুযোগ কম ছিল, তাই তাদের কাছ থেকে গতানুগতিক পারফরম্যান্স পাওয়া গেছে। মাসুম বাশার, সুজাত শিমুল, হিন্দোল রায় সহ বাকিরা মোটামুটি ভালো ছিলেন।

এ অংশ পাবে ৭০% মার্ক।
.
➤ কারিগরিঃ
    'আগস্ট ১৪' এর ডিওপি সামলিয়েছেন নাজমুল হাসান। মোটামুটি ধরনের কাজ হলেও বেশ গোছানোভাবে ঢাকা শহরটাকে দেখানো হয়েছে। ক্যামেরার কাজে বেশ ডিটেলিং লক্ষ্য করা গেছে, যা বেশ ভালো ছিল। তবে আমার মতে, এখন আমাদের আরো উন্নতমানের ক্যামেরা ব্যবহার করা জরুরি। কেন যেনো মনে হয়েছে এতো সুন্দর কাজ হওয়া সত্ত্বেও সিনেম্যাটিক ফিল টা আসছে না, কিছুকিছু জায়গায় টেলিভিশনের জন্য নির্মিত স্বল্পবাজেটের নাটকগুলোর মতো লাগছিলো।

    সিরিজে আবহ সংগীতের কাজ অনেক ভালো হয়েছে, এ দায়িত্বটি পালন করেছেন তরুণ মিউজিশিয়ান খৈয়াম শানু সন্ধি। পুরো সোয়া তিন ঘণ্টা জুড়েই আকর্ষণ ধরে রাখতে সহায়তা করে এই ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। এছাড়া কালার, সাউন্ড ডিজাইন, গ্রাফিক্সসহ সম্পাদনার পুরো কাজটি করেছেন জোবায়ের আবির পিয়াল। এই অংশের কাজ মোটামুটি হয়েছে। তবে এতো বেশি লাইট কালার না রেখে একটু ডার্ক টোন রাখতে পারলে হয়তো আরো বেশি ভালোলাগতো। এটা কিছুটা ক্যামেরা কোয়ালিটির দুর্বলতাও হতে পারে।

এ অংশ পাবে ৬০% মার্ক।
.
➤ বিনোদন ও সামাজিক বার্তাঃ
    বিনোদনের থেকে এই সিরিজে সামাজিক বার্তা দেয়ার প্রচেষ্টা ছিল বেশি। প্রথম পর্বের শুরুতেই নফ্স সম্পর্কে খানিকটা আলোচনা করে নেওয়া হয়, যাতে করে বোঝা যায় সম্পূর্ণ সিরিজটি কীরকম হতে চলেছে। নফ্স মানে হলো মন বা আত্মা। যেহেতু আমি মুসলিম এবং পবিত্র কুরআন মাজীদে বিশ্বাস করি, তাই আমি নফ্সের ব্যাখ্যাটি পবিত্র কুরআন মাজীদ অনুসারে দিচ্ছি।

    পবিত্র কুরআন মাজীদে আছে, নফ্স প্রধানত ৩ প্রকার।
 ১. নফ্স এ আম্মারা (কুপ্রবৃত্তি)
এটা অতি জঘন্য, অশিক্ষিত ও অপবিত্র। সদা সর্বদা পাপ কাজে লিপ্ত থাকে, ভালো-মন্দ কিছু বুঝে না। এমনকি পাপ কাজ করার পর আত্মগ্লানিও হয় না। এককথায় অতি নির্লজ্জ, অতি বেহায়া!

 ২. নফ্স এ লুয়ামা (অসৎ)
কাজের জন্য অনুতপ্ত মন অর্থ্যাৎ দোটানা মন। ইহা কিছু বুদ্ধি-জ্ঞানম্পন্ন এবং পবিত্র হওয়ার দরুণ কোনটা ভাল আর কোনটা মন্দ তা বুঝতে পারে। আমাদের বর্তমান সমাজের বেশিরভাগই এই ধরনের। কোনো মন্দ কাজ করলে পরক্ষণেই আত্মগ্লানি হয়।

 ৩. নফ্স এ মুতমাইন্না (শুদ্ধ ও শান্ত মন)
এটা শিক্ষাপ্রাপ্ত এবং সম্পূর্ণরূপে পবিত্র। যা কখনও অন্যায় ও পাপ কাজ করে না। এর ওপর আল্লাহর জ্যোতি প্রতিফলিত হওয়ায় এটি প্রকাশ্য রূপ ধারণ করে।
.
"ইউসুফ বলল, আমি নিজেকে নির্দোষ মনে করি না, মানুষের মন অবশ্যই মন্দকর্মপ্রবণ, সে নয়, যার প্রতি আমার প্রতিপালক দয়া করেন। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক ক্ষমাশীল, পরম দয়াময়।"
-সুরা ইউসুফ, আয়াত ৫৩
.
    উক্ত আয়াতে আল্লাহ তা'য়ালা তার নবী ইউসুফ (আ.) এর মাধ্যমে নফ্স এর প্রথম অবস্থা বা নফ্স এ আম্মারা সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেছেন। 'আগস্ট ১৪' এর মূল বিষয়বস্তুও হলো এটি। এই নফ্স এ আম্মারার ধাপ হলো দুটি; নফ্স আল হায়ওয়ানিয়া এবং নফ্স এ ইবলিশা। যার অর্থ যথাক্রমে পাশবিকতা এবং শয়তান। মানুষ সমসময় তার নফ্স এর দাস, মনে যা চায় মানুষ তাই করে। নফ্স এ আম্মারার ভয়াবহতা কীরকম হতে পারে, 'আগস্ট ১৪' এ মূলত এই দিকটায় আলোকপাত করা হয়েছে।

    এছাড়া গল্পে পর্নোগ্রাফির ভয়াবহতাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সহিত তুলে ধরা হয়েছে। ২০০৯ সালে 'মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন' একটি সমীক্ষা চালিয়েছিল, যেখানে দেখা গেছে প্রায় ৭৭% স্কুলশিক্ষার্থী নিয়মিত পর্নোগ্রাফি দেখছে (সূত্রঃ মানবজমিন)। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো, সেক্স বিষয়টিকে এ সমাজে ট্যাবু হিসেবে দেখা এবং বয়ঃসন্ধিকালে চক্ষুলজ্জার কারণে সন্তানদের সাথে এবিষয় নিয়ে আলোচনা না করা। এটা করা যদিও অনেক কঠিন এবং ধৈর্য্যের ব্যাপার, কিন্তু এটা করতে পারলে আপনার সন্তানের সাথে আপনার সম্পর্ক আরো গভীর ও দৃঢ হবে, সন্তান তার সেই জটিল সময়কার গোপন কথাগুলো আপনার সাথে শেয়ার করার সাহস পাবে।

    তৃতীয় যে বিষয়টার দিকে আলোকপাত করা হয়েছে সেটা হলো, মাদকাসক্তি। অন্য আরেকটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, এদেশের মোট মাদকাসক্তের প্রায় ৮০% তরুণ-তরুণী! এই বিষয়টি 'আগস্ট ১৪' এর শেষেও উল্লেখ করা আছে। কীভাবে একটি কিশোর বা কিশোরী মাদকাসক্ত হয়ে যেতে পারে, তার একটি অন্যতম ধাপ এই সিরিজে দেখানো হয়েছে।

এ অংশ পাবে ৮০% মার্ক।
.
➤ ব্যক্তিগতঃ
    ব্যক্তিগতভাবে এই সিরিজটি আমার কাছে মোটামুটি ভালো লেগেছে। সত্য ঘটনা অবলম্বনে কোনো কিছু নির্মাণ হলে তা দেখার জন্য মনের মধ্যে একটা আলাদা আগ্রহ জন্মায়। এক্ষেত্রেও ভিন্ন কিছু হয়নি। কি কি ভালো লাগলো আর কি কি খারাপ এ সবকিছুই আলোচনা করলাম। সবমিলিয়ে কিছু ভুলভ্রান্তি এবং দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও 'আগস্ট ১৪' আমার কাছে মন্দ লাগেনি। এটি আমাদের ওয়েব প্ল্যাটফর্মের জন্য একটি সাহসী পদক্ষেপ। আশাকরি পরবর্তীতে এরকম আরো গল্প এর থেকে ভালো নির্মাণে উপভোগ করতে পারবো।
.
রেটিং:- ৭/১০
.
➤ ওয়েব সিরিজটি কেন দেখবেনঃ
    আমার জানামতে এখন পর্যন্ত এর থেকে ভালো ওয়েব সিরিজ আমাদের দেশে হয়নি, কিংবা সেরকমভাবে কেউ চেষ্টাও করেনি। তো কেমন হলো সেটা একবার পরখ করে দেখুন। তাসনুভা তিশার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য দেখুন।
#Aug14 #Binge
লেখকঃমুনতাসির

Post a Comment

0 Comments